Connect with us

সাক্ষাৎকার

আমার ইচ্ছে ছিল নায়িকা হওয়ার : আঁখি আলমগীর

Published

on

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর

তারেক আনন্দ :
আঁখি আলমগীর। ১০ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেই পেয়ে যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তার পর আর অভিনয়ে দেখা না গেলেও দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে দাপটের সঙ্গে গান গেয়ে যাচ্ছেন। চলচ্চিত্র ও অডিওর গানে যেমন সরব, তেমনই স্টেজ সংগীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এই গ্লামারাস গায়িকা। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে বলেছেন অনেক কথা।

তারকাদের ব্যস্ত সময়। তার পরও কিছু সময় থাকে অবসর। অবসরে কী করা হয়?
অবসরে সিনেমা দেখি। অ্যাকশন থ্রিলারধর্মী ছবি দেখা হয় বেশি। বিখ্যাত অনেক ছবি আছে, সেই ছবিগুলো আগে দেখা হয়নি, এখন দেখি। বেশিরভাগই হলিউডের ছবি। বাংলা ছবিও দেখা হয়। কলকাতার প্রাক্তন, বেলা শেষে দেখেছি সবর্শেষ। আমাদের দেশের ছবি অনেক বছর দেখা হয়নি।

 

 

ছবি দেখে কি আফসোস হয়, ইস যদি নায়িকা হতাম?
শিশুশিল্পী হিসেবে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করি। তা ঠিক, আমার ইচ্ছে ছিল নায়িকা হওয়ার। ১৪, ১৫ বছর বয়সে নায়িকা যদি হতাম তা হলে আমার পড়াশোনা হতো না। বাবা চেয়েছেন পড়াশোনা আগে শেষ করি। তার পর তোমার যেটা ইচ্ছা সেটা করো। পড়াশোনা শেষ করতে করতে আমি শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলাম।

 

 

ভাত দে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্মৃতি কি মনে পড়ে?
এখন সবই মনে পড়ে কিন্তু তখন কিছুই বুঝতাম না। এ সময়ের বেবি হলে হয়তো সবই বুঝতাম। ডিরেক্টর আমজাদ হোসেন আঙ্কেল মাকে বলেছিলেন, ভাবি আপনার কাছে একটা জিনিস চাইব। আপনি না বলতে পারবেন না। প্রমিজ করেন। আর জীবনে চাইব না, এটাই ফার্স্ট এবং এটাই লাস্ট। আম্মুর তো মাথায় ছিল না যে, আমাকে ছবির জন্য চাইবে। মা বলল বলেন, আমি আঁখিকে ভাত দে চলচ্চিত্রের জন্য চাই। ও ছোট মানুষ ও কী অভিনয় করবে? আঙ্কেল বললেন, শিশুশিল্পী হিসেবে। তখন মা বললেন, আব্বুর সঙ্গে কথা বলতে। বাবাও একই কথা বলেছিলেন, আম্মুকে রাজি করাতে। মানিকগঞ্জ শুটিং হয়েছে গ্রামের একটা মাটির ঘরে। আমরা রাতে রওনা হলাম। রাতে শুটিং হওয়ার কথা না থাকলেও আমজাদ আঙ্কেল বললেন, আঁখির শুটিং রাতেই হবে। আমাকে জামা দেওয়া হলো। মেকআপ আর্টিস্ট বলল, মেকআপ করি। আঙ্কেল বললেন, ওর মেকআপ লাগবে না, শুধু গালে একটা তিল দিয়ে দাও। শাবানা আন্টির গালেও তিল আছে। আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হলোÑ তোমার বাবা-মা ঝগড়া করছে। তাদের ঝগড়ার শব্দ শুনে তোমার ঘুম ভাঙবে একটা চিৎকার দিয়ে। চোখ কিন্তু মিটিমিটি করা যাবে না। আমার সামনে ঘরভর্তি মানুষ। বাবা, শাবানা আন্টিসহ অনেক লোকজন। আমি যখন অ্যাকশন বলব, তখন তুমি চমকে উঠবে অবাক হয়ে তাকাবে।
অ্যাকশন বলল, যা যা বলেছে আমি তাই করলাম। আঙ্কেল কাট বললেন। এর পর একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তো মনে করলাম আরও বিশবার নিতে হবে। একটু পর দেখি সবাই তালি দিচ্ছে। জীবনের প্রথম শট, প্রথম টেকেই ওকে। সবাই আমাকে নিয়ে অস্থির। আদর করা শুরু করলেন।

 

 

প্রথম ছবিতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন।

 

সেই বয়সে পুরস্কারের মর্ম বুঝতাম না। টেলিভিশনে জাতীয় পুরস্কারের কথা শুনে বাবা চিৎকার করে আমাকে ডাকা শুরু করলেন, আঁখি, আঁখি কোথায়? মা তো ভয় পেয়েছে। নিশ্চয়ই মেয়ে বিরাট অন্যায় করে ফেলেছে। না হলে এত জোরে ডাকবে কেন? বাবা আমাকে কোলে নিয়ে মাকে বললেন, তোমার মেয়ে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে।

 

 

বাবা নায়ক আলমগীর। মা কবি খোশনূর বেগম। বিখ্যাত পরিবারেই আপনার জন্ম। সেই সুবাদে অনেক গুণী মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছেন নিশ্চয়ই...

 

তা তো পেয়েছি। রাজ্জাক আঙ্কেল, শাবানা আন্টির সঙ্গে মধুর স্মৃতি রয়েছে। খুব বেশি কোজড ছিল শাবানা আন্টির সঙ্গে। নিজের ফুপু, খালার মতো। ওনার দুই মেয়ে এক ছেলে। আমরাও তাই। আমরা সবাই সমবয়সী ছিলাম। ব্যক্তি শাবানাকে দেখেছিÑ আমার মা যেমন গৃহিণী ছিলেন আবার কবি, আবার তিনি নায়িকা ছিলেন, আবার গৃহিণী। খুবই সাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। শাবানা আন্টি তো ম্যাক্সি পরে চলে আসতেন আমাদের বাসায়। এসেই বলতেন, ভাবি কী রান্না করেছেন? খুবই পারিবারিক সম্পর্ক ছিল আমাদের সঙ্গে।

 

 

সাধারণত যেটা হওয়ার কথা নায়কের সঙ্গে নায়িকার মধুর সম্পর্ক। সেটা মা কীভাবে দেখতেন?
মা কখনই বাঁকা চোখে দেখতেন না। এমনও হয়েছে, কক্সবাজার শুটিং শাবানা আন্টির পরিবার, আমাদের পুরো পরিবার চলে গেছি কক্সবাজার। বাবার সঙ্গে চলচ্চিত্রের মানুষদের খুবই ভালো সম্পর্ক। রাজ্জাক আঙ্কেল সুপারস্টার, বাবা সুপারস্টার তাদের পর্দায় প্রতিযোগিতা থাকলেও দিনশেষে সবাই ছিলেন এক পরিবার। রাজ্জাক আঙ্কেল আমাদের বাসায় আসতেন, আমরাও যেতাম তাদের বাসায়। রাজ্জাক আঙ্কেল আমার মাকে বউমা বলে ডাকতেন। বউমা মানুষ কখন বলে? ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে।

 

 

একবার আমরা দুই পরিবার কুমিল্লা বার্ডে বেড়াতে গেলাম। কোনো শুটিং নয়, শুধুই ঘুরতে। আমার খুব জ্বর। ওই জার্নিতে রাজ্জাক আঙ্কেল আমাকে কোল থেকে নামাননি। আমরা থাকতাম তিনতলায়। খাবারের সময় নিচে ডাইনিংয়ে আসতেন আমাকে কোলে নিয়ে। আবার ওপরে দিয়ে আসতেন। এই ভালোবাসাগুলো আসলে অন্য কোনো সম্পর্ক দিয়ে তুলনা করা যায় না।

 

 

চলচ্চিত্রের অনেক মানুষের সঙ্গেই স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আর কারোর কথা মনে পড়ছে এই মুহূর্তে?
যার নাম না বললেই নয়, তিনি হলেন জাফর ইকবাল। আমরা বাসা চেঞ্জ করে যখন উত্তরায় আসি, তখন আমাদের বাসার বেলকনি থেকে জাফর ইকবাল আঙ্কেলের বেলকনি দেখা যেত। খুব কাছাকাছি বাসা। আঙ্কেল গিটার বাজিয়ে গান করতেন, আমরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে শুনতাম। তখন তিনি আমাদের ডাক দিতেন আঁখি বাসায় আয়। আমি তোদের স্যুপ বানিয়ে খাওয়াব। জাফর ইকবাল আঙ্কেল মজার মজার রান্না করতে পারতেন। সব ধরনের রান্নাই নিজে করতেন। ছাদে বারবিকিউ বানিয়ে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা দিতেন। বারবিকিউ পার্টিতে যখন আমরা যেতে চাইতাম তখন আমাদের বলতেন, এটা বড়দের পার্টি, তোদের জন্য নয়। আমি খাবার পাঠিয়ে দেব। ঠিকই ওনি খাবার পাঠিয়ে দিতেন।

 

Dhaka Attack Unreleased Song

Advertisement
কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী
সৃজন মিউজিক11 months ago

কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী (ভিডিও)

Praner Giutar
নতুন গান2 years ago

ভালোবাসা দিবসে দুই বাংলার মিশ্রণে ‘প্রাণের গীটার’

প্রাণের গীটার
নতুন গান2 years ago

মাহফুজ ইমরানের‌ এক বছরের সাধনার ফসল ‘প্রাণের গীটার’ (ভিডিও)

কণ্ঠশিল্পী শাহজাহান শুভ
সৃজন মিউজিক2 years ago

শাহজাহান শুভ’র ‘কথামালা’ গান অন্তর্জালে

ওমরসানী, শাকিব খান ও জায়েদ খান
বিনোদন2 years ago

শাকিব খানের কাছে ক্ষমা চাইলেন জায়েদ খান

নতুন গান2 years ago

রোহিঙ্গাদের নিয়ে গান গাইলো অবস্‌কিওর

সৃজন মিউজিক2 years ago

প্রকাশ হলো ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির অরিজিত সিংয়ের সেই গান

ব্যান্ড সঙ্গীত2 years ago

শাকিরার নতুন মিউজিক ভিডিও ‘পেরো ফিয়েল’

মিউজিক ভিডিও2 years ago

তানজীব সারোয়ারের নতুন গান

মিউজিক ভিডিও2 years ago

ইউটিউবে কুমার বিশ্বজিতের নতুন গান ‘জোছনার বর্ষণে’

Trending