Connect with us

সৃজন মিউজিক

আমি কবি নই, প্রকৃতির বার্তা বাহক

Published

on

প্রকৃতিপ্রেমী কবি চপল মাহমুদ

সৃজনমিউজিক প্রতিবেদক :

অমর একুশে বইমেলা ২০১৭ এ প্রকাশিত হয়েছে প্রকৃতির কবি চপল মাহমুদের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বার্তাবাহক’। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, আগ্রাসন, বিপন্নতা ও লোকসংস্কৃতির বিষয় নিয়ে লেখা কবিতা দিয় সাজানো হয়েছে বইটি। প্রকৃতির অতীত প্রাণবৈচিত্র্য, বর্তমান সংকট ও আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। কবির এই আলাপন নিয়ে লিখেছেন মো. জুবাইর।

‘বার্তাবাহক’ আপনার প্রকাশিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ, যাতে আপনি সমাজকে একটি বার্তা দিয়েছেন, তাছাড়া বইটির একটি কবিতায় নিজেকে কবি নয় বার্তাবাহক হিসেবে বিশেষায়িত করেছেন। এই বাক্যটি কি বোঝাতে চেয়েছেন?

চপল মাহমুদ : বর্তমান সময়ে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বিপন্নতা এমন একটি পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যা ব্যাপক সংকটের আভাস দিচ্ছে। সেই সংকট থেকে কীভাবে আমরা আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের অতীত বৈচিত্রকে ফিরিয়ে আনতে পারি, এই সংকট মোকাবেলা করতে পারি এসব বিষয় উঠে এসেছে বইটিতে। আর আমার কবিতার লেখনির মাধ্যমে এদেশের সকল স্তরের জনগণকে প্রকৃতি, পরিবেশ সম্পর্কে বার্তা দিতে চেয়েছি। তাই নিজেকে একজন কবি নয় বরং বার্তাবাহক হিসেবে বিশেষায়িত করেছি। যেন আমার দ্বারা সমাজের সকল মানুষের অল্প হলেও কিছু উপকার হয়। আমি প্রকৃতির প্রেমে মানুষকে একটি পা বাড়ানোর আহ্বান করেছি আমার কবিতা গুলোর মাধ্যমে। যাতে করে সবাই একটি করে গাছ লাগিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশকে আবারো সবুজে রুপান্তরিত করতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, আগ্রাসন, বিপন্নতা ও লোকসংস্কৃতির বিষয় নিয়ে যেসব কবিতা আপনি লিখেছেন এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

চপল মাহমুদ : আমার কবিতায় ব্যক্তিগত বলতে কিছু নেই, এগুলো সবার। আমার দেশের প্রকৃতি পরিবেশের মতই কবিতাগুলো সবার জন্য। যে আগ্রাসন আমাদের প্রকৃতি, পরিবেশ, সংস্কৃতিকে আঘাত করছে, আমরা দিন দিন আমাদের প্রাণবৈচিত্র হারাচ্ছি। আমরা আমাদের লোকসংস্কৃতি, বোধ, মানসিক সত্বা। আমরা বাক্সেবন্দী হয়ে যাচ্ছি। দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই বিভিন্ন মানুষের কারণে অপসংস্কৃতির দিকে ধাবিত হচ্ছি। আমার কবিতাগুলোয় এ বিষয়গুলো নিয়েই লেখা হয়েছে। আসলে এটা নিজের একটা চেষ্টা, যার মাধ্যমে হয়ত আমি আমার দেশের মানুষকে প্রকৃতি, পরিবেশ, লোকসংস্কৃতির প্রতি ভালবাসা ফেরানোর প্রয়াস চালাতে পারব। একটা প্রচেষ্টা ভালকে গ্রহণ করার, খারাপকে বর্জন করার। হয়ত সফল হব, হয়ত না। কিন্তু প্রকৃতি, সংস্কৃতিকে ভালবাসার যে পথে হাঁটছি তা থেকে পিছু হটব না।

চপল মাহমুদ বলেন, আমি আমার কবিতায় বিভিন্ন গাছের নাম লিখেছি, লিখেছি ফল ফলাদির নাম, নদীর নাম, যে নামগুলো এই প্রজন্মের অনেকেই জানে না। ভুলে গেছে, আমার প্রচেষ্টা এই জায়গাতেই যাতে তারা সেই নামগুলো মনে রাখে। নিজ সংস্কৃতিকে মনে রাখে। আমার দেশের লোকসংস্কৃতি, লোকগান, গানের ধারাগুলোকে তুলে ধরেছি যাতে এগুলো হারিয়ে না যায়। লোকজ খেলা ও এর ধারাগুলো নিয়ে লিখেছি যাতে মানুষ জানে আমাদের দেশের ঐতিহ্যকে। কোন ভাবেই যাতে ভুলে না যায় আমার কবিতার মাধ্যমে আমি এই চেষ্টাই করেছি।

এই যে জলবায়ু, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, লোকসংস্কৃতি নিয়ে আপনি লিখেছেন, দেশের জনগণ বা যারা কবিতা নিয়ে গবেষণা করে তারা আপনার লেখনি কতটা বুঝবে বা ধরুন যারা এই প্রজন্মের তাদের জন্য আপনার কবিতা কতটা বাস্তব?

চপল মাহমুদ : ‘বুঝবে’ (হাসি), বুঝতে হবে। দেখুন আমাদের দেশের সভ্যতা কিন্তু একদিনে স্থাপত্য হয়নি। শুধু আমাদের দেশে নয় বরং পৃথিবীকে সভ্য হতে অনেক সময় লেগেছে। সে ক্ষেত্রে আমার কবিতার বইটিকে শুধু বই বলছি না একে আমি প্রকৃতি বাঁচাও অভিযান বলছি। একটা সময় এমন আসবে কংক্রিটের সভ্যতা যখন চারপাশ ঘিরে ধরবে তখনই মানুষ বুঝবে। আমি অতি সাধারণ একজন বার্তাবাহক মাত্র। একটা জাতিকে সভ্য হতে যত বছর লেগেছিল তত বছর লাগলেও সকলেই বুঝবে। বুঝতে হবে। সৃষ্টিকর্তা সেই মেধা সবাইকেই দিয়েছেন। যারা কবিতা নিয়ে গবেষণা করেন তাদের একটা স্বাদের দরকার আছে। যখন এই স্বাদ আস্তে আস্তে শেষ হতে থাকবে তখনই তারা আবার এই স্বাদকে ছড়িয়ে দেবে সব জায়গায়। আসলে এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তাই এটা বাস্তব।

আপনি বলেছেন পরিবেশ বাঁচাত সবাইকে একটি করে গাছ লাগাতে। ‘বার্তাবাহক’ কবিতার মাধ্যমে এটি কতখানি সম্ভব?

চপল মাহমুদ : অসম্ভব বলতে কিছু নেই। পৃথিবীতে সবই সম্ভব। আমি আগেই বলেছি প্রকৃতি প্রেমে এক পা এগুতে। যারা মনে প্রাণে প্রকৃতি থেকে টান অনুভব করে তারা ঠিকই এগুবে। গাছ ও লাগাবে। এই পরিবেশকে আবারও সবুজ বনানীতে রুপান্তর করবে। মানুষের মনে ভালবাসার অভাব নাই। আমার বার্তাবহক কবিতাটি সেইসব মানুষের মনে প্রকৃতির প্রতি মায়া বাড়াবে, ভালবাসা বাড়াবে। সে টান আর ভালবাসা অনুভব করে মানুষ প্রকৃতি বাঁচাতে গাছ লাগাবে(হাসি)।

‘বার্তাবাহক’বইয়ের প্রচ্ছদ

‘বার্তাবাহক’বইয়ের প্রচ্ছদ

বই সম্পর্কে কিছু বলুন…
চপল মাহমুদ : বই সম্পর্কে আপনারা বলবেন। আমি কিছুই বলবনা(অট্টহাসি)। তবে আমি আমার প্রকাশক দেশ পাবলিকেশনের কর্ণধার অচিন্ত চয়ন’দাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। অনেকটা তার উদ্বুদ্ধে আমার বইটা আমি লিখে শেষ করতে পেরেছি। সঙ্গে ধ্রুব এশ দাদাকে। আর অনবদ্য কাজের মাধ্যমে আমার বইটি একটি সুন্দর রুপ পেয়েছে। আর বাংলাদেশের সবাইকে যাদের ভেবে, যাদের জন্য ভেবে আমি কবিতাগুলো লিখে শেষ করতে পেরেছি। বাংলাদেশ প্রকৃতির এক অপূর্ব রঙ্গশালা। এখানে প্রতিদিনই চলে ঋতু বৈচিত্র্যের ছলছাতুরি। বাংলার এমন রূপে হৃদয়ে আমার আনন্দের শিহরন জাগে। ভয়ও লাগে। কারণ, অনিন্দ্য সুন্দর এ রূপ আজ হুমকির মুখে। মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ডে বিপর্যস্ত প্রিয় দেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ। সময়ের প্রয়োজনে বইটিতে তুলে ধরতে চেয়েছি প্রকৃতির বর্তমান বেহাল রূপ, সংকট, সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমাধানের ইতিবাচক পথ। তাই আমি মনে করি ‘বার্তাবাহক’ কোন কবিতার বই নয়। এটি প্রকৃতি বাঁচাও অভিযান। এটি সকলকে একত্রিক করার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। আর, আমি কবি নই, বার্তাবাহক।

প্রকৃতি বিষয়ক ‘বার্তাবাহক’ বইটি ৩৫টি কবিতা দিয়ে সাজানো হয়েছে। এটি প্রকাশ করেছে দেশ পাবলিকেশন্স। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৫০২-৫০৩ নং স্টলে বইটি পাওয়া যাবে

Dhaka Attack Unreleased Song

Advertisement
কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী
সৃজন মিউজিক2 years ago

কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী (ভিডিও)

Praner Giutar
নতুন গান3 years ago

ভালোবাসা দিবসে দুই বাংলার মিশ্রণে ‘প্রাণের গীটার’

প্রাণের গীটার
নতুন গান3 years ago

মাহফুজ ইমরানের‌ এক বছরের সাধনার ফসল ‘প্রাণের গীটার’ (ভিডিও)

কণ্ঠশিল্পী শাহজাহান শুভ
সৃজন মিউজিক3 years ago

শাহজাহান শুভ’র ‘কথামালা’ গান অন্তর্জালে

ওমরসানী, শাকিব খান ও জায়েদ খান
বিনোদন3 years ago

শাকিব খানের কাছে ক্ষমা চাইলেন জায়েদ খান

নতুন গান3 years ago

রোহিঙ্গাদের নিয়ে গান গাইলো অবস্‌কিওর

সৃজন মিউজিক3 years ago

প্রকাশ হলো ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির অরিজিত সিংয়ের সেই গান

ব্যান্ড সঙ্গীত3 years ago

শাকিরার নতুন মিউজিক ভিডিও ‘পেরো ফিয়েল’

মিউজিক ভিডিও3 years ago

তানজীব সারোয়ারের নতুন গান

মিউজিক ভিডিও3 years ago

ইউটিউবে কুমার বিশ্বজিতের নতুন গান ‘জোছনার বর্ষণে’

Trending