Connect with us

অন্য মিডিয়া

গান আত্মার খোরাক : জাভেদ বশির

Published

on

পাকিস্তানি জনপ্রিয় শিল্পী জাভেদ বশির

সৃজন মিউজিক ডেস্ক :

‘গানের শক্তি অসীম। কখনও তা মুক্তির আন্দোলনের অস্ত্র হয়ে উঠেছে, কখনও ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত ধারণার সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে মানবিক বোধ জাগিয়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। গান আত্মার খোরাক বলেই মানুষের বেঁচে থাকার শ্রেষ্ঠ অবলম্বন। ভাষা নয়, সঙ্গীতের ভাব আর মাধুর্যই আসল। এ জন্যই সঙ্গীতকে কখনও মানচিত্রের সীমারেখায় বন্দি করে রাখা যায় না। সেই সঙ্গীতই যখন আমার চলার পথের পাথেয়, তখন আগে বা পরে এ দেশে আসতেই হতো।’ প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসে এ কথা বললেন পাকিস্তানের নন্দিত কণ্ঠশিল্পী জাভেদ বশির।

ভারতীয় ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতের ওস্তাদ এবং রক, ফিউশন, কাওয়ালিসহ বিভিন্ন ঘরানার গানে পারদর্শী এই শিল্পী পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছেন। ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব-২০১৬’ উপলক্ষে তার এবারের আগমন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে তিনি পরিবেশন করেছেন নিজের জনপ্রিয় বেশ কিছু গান। অনুষ্ঠানের আগে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় একান্ত আলাপে তিনি বলেন, ‘সঙ্গীত মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসে, আজ আরও একবার এই কথার প্রমাণ মিলবে। আমি মন-প্রাণ উজাড় করে গাইব। দেখবেন ভাষা না বুঝেও অনেকে আমার কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাবেন।’

শুরুতেই জানতে চাই, বাংলাদেশে সফর সম্পর্কে। কেমন লাগছে এই দেশ, দেশের মানুষ আর ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব ২০১৬’?

সফর ছোট, তবু চলতে ফিরতে যা দেখছি তাতে নিজের দেশ থেকে আলাদা বলে মনে হচ্ছে না। আগে কেবল শুনেছি, এ দেশের মানুষ অতিথিপরায়ণ; এবার জানলাম, যা শুনেছি তা একবিন্দুও মিথ্যা নয়। এবার বলি ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব-২০১৬’-এর কথা। লোকগান হলো একেকটি দেশের শিকড়, ঐতিহ্যের বাহক। প্রতিটি দেশে এমন আয়োজন করা উচিত। কিন্তু পাশ্চাত্য সঙ্গীতের আগ্রাসন এত বেড়েছে যে, রক, পপ, ফিউশন নিয়ে বড় বড় আয়োজন হলেও লোকগান নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বড় কোনো আয়োজন হচ্ছে না। আমি তো বলব, এ দেশের মানুষ নিজেদের গর্বিত ভাবতে পারে এমন একটি আয়োজন করতে পেরে।

এবার একটু পেছনের কথায় ফিরি। একটু আগেই বলেছেন, আগে বা পরে এ দেশে আসতেই হতো, উৎসব ছাড়া কি সত্যিই আসতেন?

লোকসঙ্গীত উৎসবে আমন্ত্রণ না পেলেও কোনো না কোনো সময় অন্য কোনো উপলক্ষে হয়তো আসতাম। ওই যে বললাম, মানচিত্রের সীমারেখায় সঙ্গীতকে বন্দি করে রাখা যায় না। যদি তাই হতো, তাহলে ভারতীয় ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত, ক্যারিবিয়ান রেগে, ল্যাটিন র‌্যাপ, পাশ্চাত্যের রক, ব্লুজ কিংবা এ দেশের লোকগান নিয়ে বিশ্বব্যাপী এত আলোচনা-গবেষণা-উৎসব বা শোরগোল কিছুই হতো না। বিভিন্ন ঘরানার সঙ্গীত দেশ-জাতির গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের কানে পেঁৗছেছে। এই আসা-যাওয়া চলতেই থাকবে।

ভারতীয় ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতের ওস্তাদ বলা হয় আপনাকে। কিন্তু সম্প্রতি আপনাকে প্লেব্যাকে ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার গান করতেও দেখা যাচ্ছে। এর কারণ কী?

সিনেমার গান তৈরি হয় গল্পের ভাবনা থেকে। গল্প অনুযায়ী নির্মাতা যে ধরনের গান রাখতে চান, প্লেব্যাকের জন্য সে ধরনের গান তৈরি হয়। নির্মাতারা শিল্পীর গানের ঘরানার চেয়ে প্রাধান্য দেন কণ্ঠ বা গায়কীর। অন্তত উপমহাদেশে এই চিত্রই বেশি চোখে পড়ে। আমি বা আমার মতো অনেক শিল্পী প্লেব্যাকের চাহিদা পূরণে ভিন্ন ধাঁচের গান গাই। এখানে চাইলেও আপনার পছন্দসই গান করার সুযোগ পাবেন না। তবে গায়কীর মাধ্যমে আপনি আপনার সেরা কাজ তুলে ধরতে পারবেন। বলিউডের ‘কাহানি’, ‘ভাগ মিলখা ভাগ’, ‘ককটেল’, ‘বোম্বে টকিজ’, ‘ওয়ানস আপন টাইম ইন এ মুম্বাই’, পাকিস্তানের ‘হিযরত’, ‘মুর’ ‘মন্ত্র’, পাঞ্জাবের ‘মিট্টি না ফুল জগিয়া’, ‘রাম্পতা জোগি’, ‘সারিক’সহ যে সব সিনেমায় প্লেব্যাক করেছি, সেগুলোতে আমি নিজের সেরা গায়কী তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। হতে এ কারণেই প্লেব্যাকে ব্যস্ততা বেড়ে বেড়েছে।

পাকিস্তানের ললিউড ছাড়াও ভারতে বলিউড ও পলিউডের ছবিতে গান করেছেন। উর্দু, হিন্দি ও পাঞ্জাবি গানের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন কী?

ভাষা ছাড়া বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। আগেও বলেছি, সিনেমার গান তৈরি হয় কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে। অঞ্চলভিত্তিক কাহিনী হলে, কখনও কখনও সে অঞ্চলের প্রচলিত গান গাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু সব সময় এমন নাও হতে পারে। প্লেব্যাকে স্বাধীনতা না থাকলেও অ্যালবামের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। অ্যালবামে আপনি চাইলে নিরীক্ষামূলক কাজ তুলে ধরতে পারেন।

সে কথা ভেবেই কি নিরীক্ষামূলক কাজ করার জন্যই এমএইচবি ব্যান্ড গঠন করেছিলেন?

অনেকটা তাই। ব্যান্ড এমএইচবি নিরীক্ষামূলক কাজ প্রাধান্য দিয়েছে। ক্লাসিক্যাল রক কেমন হতে পারে তা আমরা এই ব্যান্ডের কম্পোজিশনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বালি সাগুর সঙ্গীতায়োজনেও তৈরি করেছি বেশ কিছু ভিন্ন ধাঁচের গান। আদৌ ভিন্ন ধাঁচের হয়েছে কি-না, তা জানতে চাইলে শুনতে হবে ‘সম্পূরণ’, ‘সপ্তক’ অ্যালবামের গানগুলো।

নানা ধরনের গান করছেন। এবার বলুন, আপনি নিজে কোন ঘরানার গানে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

নানা ধরনের গান করলেও ক্লাসিক্যালের প্রতি আলাদা একটা দুর্বলতা আছে। আমার দাদা ফজলে মোহম্মদ ওরফে ফজু খাঁ এবং বাবা গজনব আলী ওরফে গজু খাঁ ক্লাসিক্যাল ঘরানার সঙ্গীতে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। তাদের দেখেই শিল্পী হওয়ার বাসনা জেগেছিল। ১৯৯২ সালের কথা। তখনও শরীরে কৈশোরের ঘ্রাণ। সে সময়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম শিল্পী হব। গাইব ক্লাসিক্যাল ঘরানার গান। বাবা আর দাদা ছাড়াও পরবর্তীকালে ওস্তাদ মোবারক আলী খানের কাছে তালিম নিয়েছি। মাঝে কিছুদিন কাওয়ালি গেয়েছি। কিন্তু ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতে এতটাই আসক্ত ছিলাম যে, এর বাইরে অন্য কিছু করার কথা ভাবতেও পারিনি। এখনও নানা ধরনের গান গাইলেও ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত থেকে কোনোভাবেই নিজেকে দূর সরিয়ে রাখতে পারি না।

লোকগানের প্রতি কোনো দুর্বলতা আছে কি?

আছে বললে কম বলা হবে। লোকগানের প্রতি আলাদা আকর্ষণ সব সময়ই ছিল। ‘ডায়লগ’ নামের অ্যালবামেও লোকগান করেছি। ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব-২০১৬’-এ অংশ নেওয়ার পেছনেও রয়েছে লোকগানের প্রতি অপার ভালোবাসা।

—-সমকাল থেকে

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dhaka Attack Unreleased Song

Advertisement
কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী
সৃজন মিউজিক11 months ago

কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী (ভিডিও)

Praner Giutar
নতুন গান2 years ago

ভালোবাসা দিবসে দুই বাংলার মিশ্রণে ‘প্রাণের গীটার’

প্রাণের গীটার
নতুন গান2 years ago

মাহফুজ ইমরানের‌ এক বছরের সাধনার ফসল ‘প্রাণের গীটার’ (ভিডিও)

কণ্ঠশিল্পী শাহজাহান শুভ
সৃজন মিউজিক2 years ago

শাহজাহান শুভ’র ‘কথামালা’ গান অন্তর্জালে

ওমরসানী, শাকিব খান ও জায়েদ খান
বিনোদন2 years ago

শাকিব খানের কাছে ক্ষমা চাইলেন জায়েদ খান

নতুন গান2 years ago

রোহিঙ্গাদের নিয়ে গান গাইলো অবস্‌কিওর

সৃজন মিউজিক2 years ago

প্রকাশ হলো ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির অরিজিত সিংয়ের সেই গান

ব্যান্ড সঙ্গীত2 years ago

শাকিরার নতুন মিউজিক ভিডিও ‘পেরো ফিয়েল’

মিউজিক ভিডিও2 years ago

তানজীব সারোয়ারের নতুন গান

মিউজিক ভিডিও2 years ago

ইউটিউবে কুমার বিশ্বজিতের নতুন গান ‘জোছনার বর্ষণে’

Trending