Connect with us

সাক্ষাৎকার

গান এখন পণ্য হয়ে গেছে : শ্রীকান্ত আচার্য্য

Published

on

ওপার বাংলার জনপ্রিয় শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্য
  • রিপন চৌধুরী :

কোলকাতার মেট্রো রেলের শেষ স্টেশন নিউ গড়িয়ার কবি সুভাষ এ নেমে রিকশাওয়ালাকে ‘লাইব্রেরি’ যাবো বললেই পৌঁছে দেবে এ সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা গানের শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্যের ঠিকানায়। সুকামার রায়ের কবিতার শব্দ থেকে নেয়া ‘মেঘ মুুলুক’ তাঁর ডুপ্লেক্স ছিম-ছাম গোছানো বাড়ির নাম। প্রবেশ পথেই বিভিন্ন গাছ-গাছালির ঘেরা আঙিনা, একটু পাশেই পূজোর ঘর। বারান্দা পেরিয়ে সোজা তিন তলার ঘরে। যে ঘরটি শ্রীকান্তের ধ্যান জ্ঞান ও সঙ্গীত চর্চার কেন্দ্র। টিপটপ সাজানো বিভিন্ন ক্রেস্ট পুরস্কার আর বাদ্যযন্ত্রে। এ ঘরেই সৃষ্টি হয়েছে কত অনবদ্য সংগীত।
সম্প্রতি শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্য কথা বলেন সৃজনমিউজিকবিডির বিশেষ প্রতিনিধি রিপন চৌধুরীর সঙ্গে। একান্ত আলাপ-চারিতায় উঠে আসে অতীত ও সমকালীন সঙ্গীতের উত্থান পতন ও অগ্রযাত্রার নানা কথা।

‘আমি কখনো সঙ্গীতের পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠিনি। আমাদের পরিবারে তা ছিলোও না। পরিবারের কেউ সংস্কৃতির কোন শাখার সাথে যুক্ত ছিলেন এমন ইতিহাসও নেই। নিজের বেড়ে উঠা প্রসঙ্গে এভাবেই শুরু করলেন শ্রীকান্ত এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের পরিবারে প্রথম ও শেষ কথা ছিলো পড়াশুনা আর চাকরি। কোনভাবেই গান বাজনার যোগসূত্র ছিলোনা আমার। এমনকী পারিবারিকভাবে কোনও উৎসাহও ছিলোনা। আমার ভেতর গানের পোকাটা কীভাবে কাজ করলো আমি জানিনা।

এখানেই সঙ্গীত চর্চা করেন শ্রীকান্ত আচার্য্য

এখানেই সঙ্গীত চর্চা করেন শ্রীকান্ত আচার্য্য

গান শেখার প্রতি নিজে থেকে আগ্রহী হলেন কীভাবে ? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার এক বড় দিদি ছিলেন, গানের গলাটা বড় ভালো ছিলো। তাকেই দেখেছি মাত্র। দক্ষিণে একটি প্রতিষ্ঠানে গান শিখতে যাই। সেখানে ১০ বছর রবীন্দ্র সঙ্গীত শিখেছি। স্নাতক শেষ করে গান নিয়ে আর কিছু করা হয়নি। আমার সঙ্গীতের বোধ ও বোঝার জায়গাটা তৈরি হয়েছে যতটুকু তা গান শুনে। প্রচুর শুনেছি। এই গুরুর কাছে গেলাম ঐ গুরুর কাছে গেলাম দীর্ঘ দিন তালিম নিলাম, অনেক কিছু করলাম এ রকম কোন গল্প আমার নেই। তবে এখন মনে হয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের যদি তালিম নিতাম তাহলে আরো বড় জায়গায় দাঁড়াতে পারতাম।
শ্রীকান্ত আচার্য্য ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে একটি কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগে চাকরি নেন। প্রতিদিন প্রচুর ট্যুর করতে হতো, কোলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গে যেতে হয়েছিলো চাকরি সূত্রে। সে সময় তাঁর প্রিয় হারমনিয়ামটাও দিয়েছিলেন এক বন্ধুকে। তবে কিছুতেই তাকে চাকরি টানেনি। বছর ছয়েকের মাথায় চাকরি ছেড়ে দেন স্বাধীন জীবন-যাপন আর গান করার প্রবল তাগিদে। এ সিদ্ধান্তে বাবা-মার সম্মতি না থাকলেও স্ত্রী তাঁর পাশে ছিলেন। এরপরই তাঁর জীবনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি আসে। যেখান থেকে তাঁর আত্মপরিচয়ের আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। এমনকী দেশের গণ্ডি ছাড়িয়েও। আবির্ভাব হয় সুরের আকাশে আরেক নক্ষত্র শ্রীকান্ত আচার্য্য।

স্মৃতি হাতরে তিনি বলেন, আমার এক দাদা, শুভাকাঙ্খী তিনি বিখ্যাত অডিও কোম্পানি এইচ এম ভি’ তে পাঠালেন। আমি ডেমো ক্যাসেট জমা দিলাম। কিন্তু ওরা গান শুনে বললেন, আমরা এ বছর আপনাকে নিয়ে ভাবতে পারবোনা, পরে ভেবে দেখবো। পরে ঐ ক্যাসেটটা সাগরিকা’তে জমা দেই। তারা গান শুনে আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি গেলাম। ওরা আমাকে ৫ বছরের চুক্তিবদ্ধ করার প্রস্তাব দিলেন। দুমাসে ২টি অ্যালবামের রেকর্ডিং হয়ে গেলো। পূজোয় বের হলো প্রথম অ্যালবাম ‘মনের জানালা’।

শ্রীকান্ত আচার্য্যের সঙ্গে প্রতিবেদক রিপন চৌধুরী

শ্রীকান্ত আচার্য্যের সঙ্গে প্রতিবেদক রিপন চৌধুরী

কোলকাতার প্রায় সব ক্যাসেটের দোকানে, এখানে সেখানে বাজছে আমার গান, আমার কানে ভেসে আসছে- এ এক অন্য রকম অনুভূতি। ইতোমধ্যে সে সময় টাইমস এফ এম রেডিওতে আমার মনের জানালা গানটি র‌্যাংকিং এর সেরা দশে উঠে আসে। এক কথায় আমার পরিচিতিটা কোন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে হয়নি। শ্রোতাদের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে এখন। গানের মান ধরে রাখতে আমাকে এখন প্রতিনিয়তই সংগ্রামের ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে।

প্রত্যেকটা সময়ই তার আধুনিকতাকে ভয় পায়। বাংলা আধুনিক গানও বিশেষ করে ৫০,৬০,৭০ বা ৮০’র দশকের গানেও কিন্তু ভাঙ্গা-গড়া আছে। সে সময়ও আগের গান ভালো ছিলো এ রকম বিষয় ছিল। পুরনো দিনের গানের প্রসঙ্গে শ্রীকান্ত এ কথা বলেন। তিনি মনে করেন, সময়ের দুটো ধারা থাকে একটা সামনে এগিয়ে নেয়, অন্যটা পিছনে টেনে ধরার চেষ্টা করে। সংকট ছিলো, থাকবেও। পেছনেরটাই ভালো ছিলো-এটা আবেগ নির্ভর বিষয়। শ্রোতার সংখ্যা আগের চেয়ে এখন বেড়েছে, ফলে রুচির পরিবর্তনও হয়েছে। আগেও গানে পরীক্ষা-নীরিক্ষা হয়েছে এখনো হচ্ছে, সমালোচনা থাকবে এটাই সময়ের চরিত্র।
এ সময়ের গান সম্পর্কে শ্রীকান্ত মনে করেন, গান এখন শিল্পরূপ হারিয়ে পণ্য হয়ে গেছে, চাল-ডালের মত। অর্ডার দিয়ে গান হয়, পুরনো দিনে তা ছিলোনা। ব্যবসা তখনও ছিলো। কিন্তু গানের মানক্ষুন্ন করে কেউ ব্যবসা করেনি, দায়বদ্ধতা ছিলো শিল্প ও শিল্পীর প্রতি। এখন অডিও কোম্পানিগুলো শুধু ব্যবসা বুঝছে। শিল্পীর স্বার্থ রক্ষা করতে পারছেনা বলেই এ মাধ্যমটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে।

যারা গান বোঝেননা তারাই ঠিক করছে কী ধরণের গান হবে। কোনটা হবেনা। টুথপেস্টের ব্যবসা আর গানের ব্যবসা তো এক হতে পারে না। টাকার কাছে রেডিও টিভিও ক্রীতদাস হয়ে গেছে। যার টাকা আছে, সে গানও করছে। তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে আপনার গান কোথায় যাবে আপনি জানতেও পারবেন না। অবৈধ বেচা-কেনার দ্বার অবারিত করেছে প্রযুক্তি। এ শিল্প ধ্বংসের অন্যতম কারণ সেটাও।

রিয়ালিটি শো এখন একটি জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান। সম্পূর্ণ এর বিরোধীতা করেন শ্রীকান্ত। বলেন, দেখুন এস এম এস দিয়ে আর যাই হোক শিল্পের বিচার হয়না। আমি এর বিরোধী। টিভিতে যা দেখা যায় তা সিরিয়ালের মতই একদম সাজানো, পরিকল্পিত। যারা উঠে আসছে তা সম্পূর্ণ সত্য নয়। আমি তখনই মেনে নেবো যখন দেখবো বাইরের জগতে ঐ প্রতিযোগী তার নিজস্ব পরিচয়ে ভালো করতে পারছে।

কোলকাতার বিশাল একটা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের গান বলতে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, অদিতি মহসীন এঁদেরকেই জানে। দুর্ভাগ্যবশত: এখানকার মানুষ বাংলাদেশের গান শোনার বা জানার সুযোগটা তেমন পায়নি। বাংলাদেশের গান প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন। বন্যা দি, লিসা দি, অদিতি আমাদের ঘরের শিল্পী হয়ে গেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সুবীর নন্দী, কিরণ চন্দ্র রায়, কুমার বিশ্বজিৎ, বাপ্পা মজুমদার, এরা সারারাত এখানে গান করুক। এখানকার শ্রোতারা জানুক ওখানেও কত অসাধারণ শিল্পী আছে।
কোলকাতার ব্যান্ড সঙ্গীতের প্রসঙ্গ আসতেই শ্রীকান্ত বলেন, কোলকাতায় ব্যন্ড সঙ্গীত তেমন জায়গা করতে পারেনি এক সময়। সে সময়টায় বাংলাদেশে অনেক এগিয়ে যায়। ‘ফিডব্যাক’ এখানে ব্যান্ড সঙ্গীতের প্রসারে একটা বড় ভূমিকা পালন করেছে। কোলকাতার ব্যান্ড সঙ্গীতের যে প্রসার এবং আজকের গ্রহণযোগ্যতার যেখানে দাঁড়িয়েছে তা বাংলাদেশের ব্যান্ড দলগুলোর অবদান আছে, তা স্বীকার করতেই হবে। আমি মাকসুদ ও আইয়ুব বাচ্চুর ভয়ঙ্কর ভক্ত।

https://www.youtube.com/watch?v=O5ErusQp2EQ

আপনার নতুন অ্যালবাম মুসাফিরানা-২ এর খবর বলেন। মুসাফিরানা একটি সমকালীন ভাবনার ফসল। আমরা তিনজন আমি, জয় সরকার ও সৃজাত বন্দোপাধ্যায় এ নিয়ে কাজ করেছি। তা একেবারে নতুন তা দাবী করছিনা। আগেও এ ধরনের গান হয়েছে। নজরুলও করেছি। কিন্তু সেটা ছিলো ট্রাডিশনাল, আমরা তা একটু ভেঙ্গে পুরো গজল আঙ্গিকেই করতে চেষ্টা করছি। সেখানে বাংলা ভাষাকে আরো অলংকৃত করতে বিদেশি শব্দের ব্যবহারও আছে। গজল ফরমেটে গান লিখে সেটা তৈরি করার প্রয়াস। যদিও নচিকেতা করেছেন, সফলতার সাথেই। আমি যতদূর জানি মধু মুখার্জীও এ রকম কাজ করেছেন।
সময়ের সাথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়েই চলছেন শ্রীকান্ত। হৃদয়ে ঐতিহ্যকে ধারণ করে এ ধরণের কাজ বাংলা ভাষাকে আরো সমৃদ্ধ ও সচল করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। মানুষ যদি ভালোভাবে গ্রহণ করে তাহলে তা হবে তাদের নতুন কিছু সৃষ্টির পুরস্কার।

https://www.youtube.com/watch?v=FTuO_y1aV8g

Dhaka Attack Unreleased Song

Advertisement
কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী
সৃজন মিউজিক2 years ago

কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী (ভিডিও)

Praner Giutar
নতুন গান3 years ago

ভালোবাসা দিবসে দুই বাংলার মিশ্রণে ‘প্রাণের গীটার’

প্রাণের গীটার
নতুন গান3 years ago

মাহফুজ ইমরানের‌ এক বছরের সাধনার ফসল ‘প্রাণের গীটার’ (ভিডিও)

কণ্ঠশিল্পী শাহজাহান শুভ
সৃজন মিউজিক4 years ago

শাহজাহান শুভ’র ‘কথামালা’ গান অন্তর্জালে

ওমরসানী, শাকিব খান ও জায়েদ খান
বিনোদন4 years ago

শাকিব খানের কাছে ক্ষমা চাইলেন জায়েদ খান

নতুন গান4 years ago

রোহিঙ্গাদের নিয়ে গান গাইলো অবস্‌কিওর

সৃজন মিউজিক4 years ago

প্রকাশ হলো ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির অরিজিত সিংয়ের সেই গান

ব্যান্ড সঙ্গীত4 years ago

শাকিরার নতুন মিউজিক ভিডিও ‘পেরো ফিয়েল’

মিউজিক ভিডিও4 years ago

তানজীব সারোয়ারের নতুন গান

মিউজিক ভিডিও4 years ago

ইউটিউবে কুমার বিশ্বজিতের নতুন গান ‘জোছনার বর্ষণে’

Trending