Connect with us

অন্য মিডিয়া

ব্ল্যাক ডায়মন্ড বেবী নাজনীন

Published

on

জনপ্রিয় শিল্পী বেবী নাজনীন

সৃজনমিউজিক ডেস্ক :

কণ্ঠের মাদকতায় সম্মোহিত করে রাখেন। তার অনবদ্য গায়কীতে দর্শক-শ্রোতা কখনও ডুবে যান কল্পনার গহিনে, কখনও মেতে ওঠেন উন্মাতাল নৃত্যে। এ কারণেই বেবী নাজনীনকে বলা হয় মঞ্চের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী। প্লেব্যাক এবং টিভি আয়োজনেও রয়েছে তার সমান উপস্থিতি। কোকিলকণ্ঠী এই শিল্পী তাল-লয়-সুরের খেলায় যুগ যুগ ধরে মন্ত্র-মুগ্ধ করে রেখেছেন লাখো সঙ্গীতপ্রেমীকে।
আলো ঝলমলে মঞ্চ। চারপাশে অগণিত দর্শকের ভিড়। প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন সবাই; কখন মঞ্চে পা রাখবেন তাদের প্রিয় শিল্পী। অতঃপর উপস্থাপক ঘোষণা দিলেন :’এবার আসছেন আপনাদের প্রিয় শিল্পী ব্ল্যাক ডায়মন্ড বেবী নাজনীন।’ মুহূর্তে বদলে গেল পরিবেশ। উল্লাসে ফেটে পড়লেন ভক্ত-শ্রোতা। ধীর পায়ে মঞ্চে এলেন তিনি। শুভেচ্ছা আর টুকরো কিছু কথা বলে অবসান ঘটালেন প্রতীক্ষার। আমন্ত্রণ জানালেন তার কণ্ঠে কণ্ঠে মেলাবার। শুরু করলেন গাওয়া…’ দু’চোখে ঘুম আসে না, তোমাকে দেখার পরে…।’

এমন দৃশ্যের সঙ্গে পরিচিত অনেকেই। কেননা এভাবেই দেশ-বিদেশের মঞ্চে গানে গানে আলো ছড়িয়েছেন ‘স্টেজ কুইন’ খ্যাত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। মঞ্চ যেমন তার প্রাণ, তেমনি মঞ্চের দর্শকের প্রাণস্পন্দন তিনি। এই কথা আমাদের নয়, যারা তার গানের ভক্ত-অনুরাগী তাদের। ক’দিন আগে রাজধানীর একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এমন কথাই শোনা গেছে অনেকের মুখে। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বেবী নাজনীনের গায়কীতে কী এমন আছে, যা তাদের এতটা সম্মোহিত করে? এর উত্তর অনেকে দিতে পারেননি। কেবল বলেছেন, ‘বেবী নাজনীন কয়েক দশক ধরে গানে গানে হৃদয় আন্দোলিত করে আসেছেন। মেলোডি প্রধান গান থেকে শুরু করে, ফোক ফিউশন, টেকনো, রক, ভজন, কীর্তন, ক্ল্যাসিকসহ প্রায় সব ধরনের গানে তিনি পারদর্শী।’
আবার কেউ কেউ বলেছেন, তার অনিন্দ্য সুন্দর এবং মাদকতাময় কণ্ঠের কথা। বলেছেন, ‘দেশের অনেক ভালো ভালো শিল্পী আছেন। তাদের গায়কীও মন ছুঁয়ে যায়। কিন্তু বেবী নাজনীনের গায়কী তাদের থেকে একেবারেই আলাদা, যা সহজেই মনকে বশীভূত করে ফেলে।’
বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েক দর্শক। তাদের বিস্ময়ের কারণ যুগের পর যুগ একজন শিল্পী এমন মাদকতাময় কণ্ঠ ধরে রেখেছেন কীভাবে! সাড়ে ৩০০ ছবিতে প্লেব্যাক, অর্ধশত এককসহ মিশ্র ও দ্বৈত মিলিয়ে দুই শতাধিক অ্যালবামে গেয়েছেন কয়েক হাজার গান। এটা কীভাবে সম্ভব হলো? সেই ভক্তের এই প্রশ্নের উত্তর আরেক ভক্ত দিয়েছেন এই কথায় :’অনেক বড় মাপের শিল্পী বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।’

এই কথা লুফে নিয়ে আরেক দর্শক বলে বসলেন, ”ঠিকই বলেছেন, যার জনপ্রিয় গানের সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না, সে কত বড় মাপের শিল্পী, তা অনুমান করাও কঠিন। ‘কাল সারারাত ছিল স্বপ্নের রাত’, ‘এলোমেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল’, ‘বন্ধু তুমি কই’, ‘ঘুম ভাঙ্গাইয়া গেল রে মরার কোকিলে’, ‘আর কতদিন হৃদয়ের বৈশাখ’, ‘দু’চোখে ঘুম আসে না’, ‘সারা বাংলা খুঁজি তোমারে’, ‘আয় সথী’, ‘তুমি শুধু একজন’, ‘মন চায় রে’, ‘প্রিয়তম’, ‘দুষ্টু ছেলে’, ‘মেঘের কাজল’ থেকে শুরু করে এই শিল্পীর জনপ্রিয় গানের সঠিক সংখ্যা বের করাও কঠিন। এখন বলুন, ক’জন শিল্পীর এত জনপ্রিয় গান আছে? তার চেয়ে বড় কথা, বেবী নাজনীন বড় শিল্পী হবেন তার প্রমাণ রেখেছেন শৈশবে।
১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত টানা চারবার পেয়েছেন জাতীয় শিশুশিল্পী পুরস্কার। প্লেব্যাকের জন্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ২০০৩ সালে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

https://www.youtube.com/watch?v=w-FaMWuZkTk

এর বাইরের আরও কত যে পুরস্কার পেয়েছেন, তার হিসাব মেলা ভার। এতেই কি অনুমান করা যায় না, তিনি কত বড় মাপের শিল্পী? জানি, ভক্ত-শ্রোতাদের এই প্রশ্নোত্তর পর্ব চলতেই থাকবে। তাদের মতামত নিয়েও নানাজন নানা কথা বলবেন। কার কথা সত্য, কার কথা মিথ্যা, আমরা বরং সেই তর্ক-বিতর্কে না যাই। কিন্তু একটা কথা মানতেই হয়, বেবী নাজনীনের এমন ভক্ত-অনুরাগী আগেও ছিল এখনও আছে। গানে গানে যাদের হৃদয় জয় করে বেবী নাজনীন ভূষিত হয়েছেন ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’, ‘কৃষ্ণকলি’, ‘স্টেজ কুইন’-এর মতো নানা খেতাবে। টানা চারবার পেয়েছেন জাতীয় শিশুশিল্পী পুরস্কার।
খ্যাতিমান এই সঙ্গীত তারকার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল গানে গানে এই দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার মন্ত্রটা কী? এর উত্তরে বেবী নাজনীন বলেন, ‘ভক্ত শ্রোতার ভালোবাসা আমাকে এতটা পথ পাড়ি দেওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। তারা চায় বলে আজও গাইছি।’ এখন প্রশ্ন হলো, নানাজনের নানা রকম পছন্দ। সবার এই চাহিদা পূরণ করছেন কীভাবে? বেবী নাজনীন বলেন, ‘আমি কিন্তু সব ধরনের গানের জন্য নিজেকে তৈরি করেছি।

নির্দিষ্ট ঘরানায় নিজেকে বন্দি রাখিনি। সময়ের সঙ্গে মানুষের চাহিদা বদলে যায়, এ কারণে নতুনদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ সঙ্গীতায়োজকদের দিয়ে অ্যালবাম আয়োজন করেছি। কারণ নতুনরা জানে, তাদের সময়ে শ্রোতা কী চায়, আর অভিজ্ঞরা জানে, কোন ধাঁচের গানের শ্রোতার রুচি বদলে দেওয়া যায়। স্টেজ শোতেও আমি দর্শক বুঝে গান করি।

এ জন্য মানুষের অবয়বকে পড়তে জানতে হয়। এটা জানলেই আপনি বুঝতে পারবেন কার কী পছন্দ। তাই দর্শক বয়স, পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে অনুমান করে নিই, কার কোন ধরনের গান ভালো লাগবে। মঞ্চে উঠে সেভাবেই গানের পরিবেশনা সাজাই। দেশাত্মবোধক কিংবা চটুল বিটের গান, যখন যেটা ভালো লাগবে, সেভাবে পরিবেশন করি। জানি গান শোনার জন্য ভাষা কোনো বাধা নয়। তারপরও শ্রোতার মনের দরজায় কড়া নাড়তে ১৪টি ভাষা রপ্ত করেছি। চেয়েছি ভিন্ন দেশের শ্রোতারা আমার গানের সুর-সঙ্গীতে উপভোগের পাশাপাশি গানের কথায় কী বলছি, তা যেন বুঝতে পারে। নানা দেশে সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখেও গান করে থাকি।

এই পরিকল্পনা কাজে লেগেছে বলেই হয়তো দেশ-বিদেশের মঞ্চে আজও গান গাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। সেই সঙ্গে গানে গানে কুড়িয়ে নিচ্ছি দর্শক শ্রোতার ভালোবাসা।’ প্রতিটি আয়োজনে পরিকল্পিতভাবে গান করেন বলেই কি ‘স্টেজ কুইন’ খেতাব দেওয়া হয়েছে? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘খেতাব তো ভক্ত ও সঙ্গীতবোদ্ধারা দিয়ে থাকেন। কেন তারা আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খেতাব দিয়েছেন, এর উত্তর তারা ভালো দিতে পারবেন। আমি শুধু বলতে পারি ভক্তরা ভালোবেসে যে খেতাব দিয়েছেন, তা পেয়ে আমার শিল্পী জীবন সার্থক হয়ে উঠেছে।’

ভক্তদের কাছে বেবী নাজনীনের প্রাপ্তির পেছনে তার নিবেদনও নেহাত কম নয়। ভিন্ন ধাঁচের কয়েক হাজার গান উপহার দিয়েছেন বলেই তার এই কদর। কিন্তু সেই শিল্পীর সিংহভাগ গান চলচ্চিত্রের জন্য রেকর্ড করা হয়েছিল, সেই বেবী নাজনীন এখন খুব একটা প্লেব্যাক করছেন না। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে নতুনদের অনেকে কাজ করছেন। কেউ কেউ ভালো করছেন, কিন্তু অনেকে আছেন সঙ্গীত কী তা পুরোপুরি না জেনে, আয়ত্ত না করেই সঙ্গীত পরিচালকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। এমন কারও সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা নেই। অন্যদিকে প্লেব্যাকে সম্মানির নামে যে অর্থ দেওয়া হয়, তা মোটেও সম্মানজনক নয়। এ দেশে শিল্পীদের যদি সত্যিকার অর্থে সম্মান দেওয়া হতো, তাহলে এতটা দুর্দশা হতো না। এসব ভেবেই প্লেব্যাক কমিয়ে দিয়েছি।’ তার এই কথার রেশ ধরে জানতে চাইলাম, ‘অ্যালবামের বিষয়েও কি একই রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি-না? কিন্তু বেবী নাজনীন বলেন, ‘অ্যালবামের বিষয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এরই মধ্যে আমার ৫১তম এককের কাজ শুরু করেছি। নতুন ও অভিজ্ঞদের নিয়ে এবার কাজ করছি। নিজের গীতিকবিতা থেকেও কিছু গান করার ইচ্ছা আছে। আশা করছি, বছরের মাঝামাঝি অ্যালবাম প্রকাশ করতে পারব।’
অ্যালবাম তো প্রকাশ করবেন, তার জন্য এতটা সময় নিলেন কেন? এর জবাবে বেবী নাজনীন বলেন, বিদেশে সফর অনেকটা সময় ব্যয় হয়েছে। তাছাড়া কিছুটা অভিমানও ছিল এই ভেবে, ভালো শিল্পীর অভাব না থাকার পরও এ দেশে কেন ভিন্নদেশি শিল্পীরা এসে স্টেজ, প্লেব্যাক, টিভি লাইভে অংশ নেবে? শেষ পর্যন্ত অভিমান ভেঙে আবার নতুন গানের আয়োজন করছি।

কারণ আমি বিশ্বাস করি, সময় বদলাবে, দেশের শিল্পীরা যোগ্য সম্মান পাবেন। গানে গানেই আমরা সব অনিয়মকে রুখে দেব।’ আমরাও চাই তার এই চাওয়া পূর্ণ হোক। দৈনিক সমকাল থেকে

Dhaka Attack Unreleased Song

Advertisement
কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী
সৃজন মিউজিক2 years ago

কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী (ভিডিও)

Praner Giutar
নতুন গান3 years ago

ভালোবাসা দিবসে দুই বাংলার মিশ্রণে ‘প্রাণের গীটার’

প্রাণের গীটার
নতুন গান3 years ago

মাহফুজ ইমরানের‌ এক বছরের সাধনার ফসল ‘প্রাণের গীটার’ (ভিডিও)

কণ্ঠশিল্পী শাহজাহান শুভ
সৃজন মিউজিক3 years ago

শাহজাহান শুভ’র ‘কথামালা’ গান অন্তর্জালে

ওমরসানী, শাকিব খান ও জায়েদ খান
বিনোদন3 years ago

শাকিব খানের কাছে ক্ষমা চাইলেন জায়েদ খান

নতুন গান3 years ago

রোহিঙ্গাদের নিয়ে গান গাইলো অবস্‌কিওর

সৃজন মিউজিক3 years ago

প্রকাশ হলো ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির অরিজিত সিংয়ের সেই গান

ব্যান্ড সঙ্গীত3 years ago

শাকিরার নতুন মিউজিক ভিডিও ‘পেরো ফিয়েল’

মিউজিক ভিডিও3 years ago

তানজীব সারোয়ারের নতুন গান

মিউজিক ভিডিও3 years ago

ইউটিউবে কুমার বিশ্বজিতের নতুন গান ‘জোছনার বর্ষণে’

Trending