Connect with us

সাক্ষাৎকার

সুরের কারিগর সজীব দাসের গল্প

Published

on

গুনি সঙ্গীত পরিচালক সজীব দাস

রিপন চৌধুরী :

সঙ্গীতের সরোবরে অবগাহন করেই নিজেকে দিনে দিনে শুদ্ধ করেছেন এ সময়ের নন্দিত সঙ্গীত পরিচালক সজীব দাস। ‘পথচলা অনেক বাকী,তবে থেমে যাবেনা,সময়ের স্রোতে ভাসলেও ফেলে আসা পথ আর শেকড়ের কথা ভুলে না যাওয়ার ব্রত নিয়েই সঙ্গীতকে পেশা করে নিয়েছি’–সৃজনমিউজিকবিডি ডটকমের কাছে এভাবেই নিজের পথচলার কথা তুলে ধরলেন সজীব দাস।

 

মা স্বপ্না রানী দাস ও বাবা কে. সি দাস ছিলেন সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। যুগ্ম সচিবের দায়িত্বে থেকেও বাবা দপ্তর ও সংসার দু’টোই সামলাতেন দক্ষতার সাথে। মা-বাবার ভিতর প্রচণ্ডভাবে সঙ্গীতের নেশা কাজ করতো।নিজেরা পেরে উঠেননি বলেই ছেলে-মেয়েদের ভিতর তা খুঁজে চলেছেন,দেখতে চেয়েছেন। তাই বাসায় শিক্ষা গুরু রেখে তাদের গান শেখাতেন। বড় ছেলে আমেরিকা প্রবাসী অধ্যাপক ড. শ্যামল কুমার দাস বাবার ইচ্ছাতেই গিটার হাতে তুলে নিয়েছিলেন,কন্ঠে সুর তুলে নিয়েছিলেন বোনেরাও।

বিদেশ-বিভূঁইয়ে পাড়ি জমানোয় ভাইয়ের গিটার আর তেমন করে বাজেনি। ভাইয়ের গিটার আর বোনদের সঙ্গীত চর্চায় প্রতিদিন ঘুম ভাঙ্গতো সজীবের। সেই যে সুরের কাঁটা বিঁধেছিলো শিশুকালে,সে কাঁটা আজো বিদ্যমান তাঁর জীবনবোধের প্রতিটি কানায় কানায়।

প্রতিবেদক রিপন চৌধুরী ও সজীব দাস

প্রতিবেদক রিপন চৌধুরী ও সজীব দাস

একটু যখন সব বুঝতে শিখছেন,তখনই ছুঁয়ে দেখেন গিটারের তার গুলো। না,আর সেখান থেকে হাত সরিয়ে নেননি। এখনো সেই গিটারের ছন্দ ওঠে,ধূণ বেজে ওঠে সহসায়।

 

একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে সজীব একটু-আধটু সুর করতে শুরু করেন। তার পূর্ণতা পায় ২০০৭ সালে। সাফল্য আসে প্রথম নীরবের ‘রোদ্দুর হাসি’ গান দিয়ে। প্রথম সুর-সঙ্গীতের এই গানটি ঐ সময় এফ এম রেডিওতে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

 

এম বি এ পাশ করে কিছুদিন বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করলেও সঙ্গীতের টানে তা ছেড়ে দেন। নিজের শান্তির জায়গা থেকে সঙ্গীতকে পেশা হিসাবে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এক পর্য্যায়ে ‘ রেডিও আমার’ ও ‘এশিয়ান রেডিও’তে অনুষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তাতেও হৃদয়ের তৃষা মেটেনি। পরে শুধুই সুর করা আর সঙ্গীতায়োজনের দিকে মনোযোগী হন সজীব দাস।

 

টেলিভিশনে ‘হ্যাপী টাচ’ ব্যান্ডের শো দেখে পণ করেছিলেন লাকী আখান্দের কাছে শিখবেন। সজীব দাস বলেন, তখন আমি এস এস সি পরীক্ষা দেবো। হঠাৎ জানলাম মগবাজারে লাকী ভাই গিটার ও পিয়ানো শেখাচ্ছেন। খোঁজ-খবর করে ভর্তি হলাম। কেন জানিনা, লাকী ভাই আমাকে অনেক যত্ন করে শেখাতেন। প্রায়ই আমাকে শুধু প্লাকিং করতে বলতেন। ঘন্টার পর ঘন্টা নিজে বসিয়ে প্রাক্টিস করাতেন।

বিটলস,কারপেন্টাস,বিলি জুয়েল,এলস্টুয়াট বেশী করে শুনতে বলতেন। তাঁর কথার বাইরে যেতাম না। পরে জিপ্সি কিং,ইয়ানী শোনাতেন। তাদের অনেক কম্পোজিশন তুলতে বলতেন। এ ভাবেই লাকী ভাইয়ের কাছে আমার শুরুর দিকটা কেটে যায়। নানা সময়ে অনেকের কাছেই ঋণী হয়েছি,কিন্তু লাকী ভাইয়ের কাছে আমার সারা জীবনের ঋণ।

গুনি সঙ্গীত পরিচালক সজীব দাস

গুনি সঙ্গীত পরিচালক সজীব দাস

হ্যাপী টাচের সাথে যুক্ত হবার গল্পটাও এ রকমই। ৩/৪ বছরের মাথায় তাঁর গান গুলো প্রাক্টিস করতে বললেন। ১৯৯৭ সালের দিকে বি টি ভি’তে শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে তাঁর সাথে প্রথম ‘ এই নীল মণিহার’ গানটা বাজাই। তারপর অনেক বছর হ্যাপী টাচের সাথে গীটার বাজাই। চলতে থাকে কীভাবে বাজাতে হয়, সুর করতে হয়-এ সবের শিক্ষা। আমি প্লাকিং করতাম লাকী ভাই সুর করতেন। সুর করার কৌশল গুলো আমার রপ্ত হতে থাকে দিনেদিনে। ভালোবাসা না থাকলে গান হয়না,ভালো মানুষ না হলে শিল্পী হওয়া যায়না,পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়না–এই মন্ত্র লাকী ভাই প্রায়ই বলতেন। আজ আমি তা উপলব্ধি করি,বিশ্বাস করি।

 

বেছে বেছে সঙ্গীতায়োজন করলেও বর্তমানে সজীব দাস সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় মনোনিবেশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,পরিপূর্ণতা সঙ্গীত পরিচালনার মধ্যেই আসে। নিজের সুরে সঙ্গীতায়োজনে যে স্বাচ্ছন্দবোধ- তা অন্য কিছুতে পাইনা। তৃপ্তির কোথায় যেন একটা ঘাটতি থেকে যায়।

 

এই অল্প সময়েই বাংলাদেশের বড় বড় শিল্পীদের গানে সুর-সঙ্গীত করা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এ আমার সৌভাগ্য, সুযোগও বটে! অনেক বড় বড় শিল্পীর প্রশংসা আমাকে আরো দায়িত্বশীল করে তুলছে। পছন্দের জায়গাটা ছুঁতে পেরেছি বলেই হয়তো তাঁরা গেয়েছেন।

ফাহমিদা নবী ও সজীব দাস

ফাহমিদা নবী ও সজীব দাস

দেড় শতাধিক গানে সুর করেছেন সজীব দাস। এ সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। অসংখ্য একক ও মিশ্র অ্যালবামে সুর-সঙ্গীত করেছেন। শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে, নন্দিত হয়েছেন। নতুনদের নিয়ে কাজ বেশি করেছেন। তিনি বলেন, ওরা প্রতিশ্রুতিশীল, আমিও আরো অনেক দূরে যাবার স্বপ্ন লালন করি। ফলে ওদের সাথে রসায়নটা ভালো হয়, ইচ্ছে মতো কাজ আদায় করে নেয়া যায়।

 

সম্প্রতি তাঁর সুর করা ‘ভুল করে’ গানটির শিরোনামে এসেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত ফাহমিদা নবীর একক এ্যালবাম। যার সঙ্গীতায়োজন হয়েছে কলকাতায়। সুর এবং সুরের মোহজালেই আষ্টে-পিষ্ঠে থাকতে চান সজীব দাস।

 

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dhaka Attack Unreleased Song

Advertisement
কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী
সৃজন মিউজিক2 years ago

কাজী শুভর গানে কলকাতার পল্লবী কর ও প্রেম কাজী (ভিডিও)

Praner Giutar
নতুন গান3 years ago

ভালোবাসা দিবসে দুই বাংলার মিশ্রণে ‘প্রাণের গীটার’

প্রাণের গীটার
নতুন গান3 years ago

মাহফুজ ইমরানের‌ এক বছরের সাধনার ফসল ‘প্রাণের গীটার’ (ভিডিও)

কণ্ঠশিল্পী শাহজাহান শুভ
সৃজন মিউজিক4 years ago

শাহজাহান শুভ’র ‘কথামালা’ গান অন্তর্জালে

ওমরসানী, শাকিব খান ও জায়েদ খান
বিনোদন4 years ago

শাকিব খানের কাছে ক্ষমা চাইলেন জায়েদ খান

নতুন গান4 years ago

রোহিঙ্গাদের নিয়ে গান গাইলো অবস্‌কিওর

সৃজন মিউজিক4 years ago

প্রকাশ হলো ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির অরিজিত সিংয়ের সেই গান

ব্যান্ড সঙ্গীত4 years ago

শাকিরার নতুন মিউজিক ভিডিও ‘পেরো ফিয়েল’

মিউজিক ভিডিও4 years ago

তানজীব সারোয়ারের নতুন গান

মিউজিক ভিডিও4 years ago

ইউটিউবে কুমার বিশ্বজিতের নতুন গান ‘জোছনার বর্ষণে’

Trending